Latest Posts
মোবাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মোবাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৫

ভাইবার, ট্যাঙ্গো, হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন নামের ভয়েস এবং মেসেজিং সেবা বন্ধ

গত ১৭ তারিখ ভাইবার ও ট্যাঙ্গো বন্ধ করার পর এবার হোয়াটসঅ্যাপ, মাইপিপল ও লাইন নামের আরও তিনটি ভয়েস এবং মেসেজিং সেবা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বিটিআরসি ও টেলিকম অপারেটর সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভাইবার ও ট্যাঙ্গো বন্ধের সময়সীমা ২১ জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। বিটিআরসির পরিচালক পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মুঠোফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেলা দুইটা ৫৯ মিনিটে বিটিআরসির কাছ থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা পেয়েছে।
আরেক মুঠোফোন কোম্পানি রবির মুখপাত্র মহিউদ্দিন বাবর বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার যেকোনো সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে চলতে হয়। সে অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হয়।’

এর আগে গত শনিবার রাতে বিটিআরসির পরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা সব মুঠোফোন অপারেটর ও আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) লাইসেন্সধারীর কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান। প্রথমে রোববার ভোর পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সেবা দুটি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে রোববার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই সেবা বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও ভাইবার বা ট্যাঙ্গো চালু হয়নি। পরে সোমবার দুপুরে ভাইবার-ট্যাঙ্গো বন্ধের সময়সীমা বাড়ানো এবং নতুন করে আরও তিনটি সেবা বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেয়।

বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিনা খরচে কথা বলা এবং নিজেদের অবস্থান গোপন রেখে কথা বলার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগের জন্য ভাইবার ব্যবহার করেন। এমনকি নাশকতার কাজেও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সারা হচ্ছে ভাইবার ব্যবহার করে। এ ব্যাপারে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেবা দুটি বন্ধে বিটিআরসির সহায়তা চায়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিটিআরসি থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয় মুঠোফোন কোম্পানি ও আইজিডব্লিউগুলোর কাছে। সে অনুযায়ী শনিবার রাত থেকে ভাইবার ও ট্যাঙ্গো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন ও মাইপিপল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। সে কারণে তাদের পক্ষ থেকে ভাইবার ও ট্যাঙ্গো বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়ানো এবং নতুন তিনটি সেবা বন্ধের অনুরোধ আসে। সে পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির নতুন নির্দেশনাটি আসে।

বিটিআরসির এ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন অনলাইন, ফেসবুকসহ সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশে ভাইবার বন্ধ হওয়ার এই খবর ইতিমধ্যে এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য হিন্দুর মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।
more »

মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৪

গুরুত্বপূর্ণ ৪টি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

গুগল প্লে স্টোরে আছে হাজারটা ফ্রী অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ। তাই নতুন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারে না কোন অ্যাপটি তার জন্য বেশি কার্যকর হবে।
একাধিক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ঝামেলায় ফেলে দেয় ব্যবহারকারীকে। তাই গুরুত্বপুর্ন কিছু অ্যাপ সম্পর্কে জানা দরকার যা দৈনন্দিন ব্যবহৃত হয়।
ইএস ফাইল এক্সপ্লোরার
অ্যান্ড্রয়েড মার্কেটে ইএস ফাইল এক্সপ্লোরার খুব জনপ্রিয় ফাইল ডিরেক্টরি। এটি দিয়ে যেকোনো ফাইল সার্চ করা যাবে। তবে এর জন্য অবশ্যই স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড রুট এক্সেস থাকতে হবে। কিছু টুল আছে এখানে যা কোন ফাইলগুলো বেশি জায়গা নিবে তা জানিয়ে দিবে।

পোলারিস অফিস
আপনি যদি কোন সক্ষম ওয়ার্ড ডকুমেন্ট ভিউয়ার খুঁজে থাকেন তাহলে পোলারিস অফিস অবশ্যই সেরা। ওয়ার্ড ফাইল এডিট ও কম্পোজ করা হয় এই অ্যাপ দিয়ে।

অ্যাডোবি রিডার
পোলারিস দিয়ে যেসকল ফাইল পড়া যায়না অ্যাডোবি রিডার দিয়ে সেগুলো পড়া যায় এবং ফ্রী অ্যাডোবি রিডারের জন্য খুব অল্প মেমোরি দরকার। দিন দিন ব্যবহারের ফলে একটি বিশ্বস্ত অ্যাপ্লিকেশন হয়ে উঠবে অ্যাডোবি রিডার।

সুইফট কিবোর্ড
অনেক সময় তাড়াতাড়ি মেসেজ রিপ্লাই দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। আর এই কাজে অ্যাপটি খুব কার্যকর। কিবোর্ডে আছে কয়েক ডজন ভাষা অভিধান। তাছাড়াও এটি ব্যবহারকারীর টেক্সট মেসেজিং অভ্যাস চিনতে পারে। ফলে টাইপ করার সময় পরের টেক্সটটি কি হবে বুঝতে পারে।
more »

স্মার্টফোনের জন্য চমৎকার কিছু মিউজিক প্লেয়ার

মিউজিক শুধু আনন্দেরই একটি উৎস নয়, বরং এর মাধ্যমে আমরা মাঝে মাঝে ইন্সপায়ারও হয়ে থাকি। মিউজিক অনেকেরই কাজের প্রেরণা যোগায়। এছাড়া মন খারাপ থাকলেতো এর চাইতে ভালো বন্ধু আর নেই। তবে ভালো মিউজিক শোনার জন্য কিন্তু চমৎকার একটি স্মার্টফোন থাকলেই হয় না, বরং মিউজিক প্লেয়ারও মিউজিকের এক্সপেরিয়েন্স অনেক রিচ করতে সক্ষম হয়। তাই আজকে আপনাদের সামনে কিছু চমৎকার জনপ্রিয় মিউজিক প্লেয়ারের সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করবো। হয়তো এখান থেকে আপনি আপনার পছন্দের মিউজিক প্লেয়ারটি খুঁজে নিতে পারবেন।


১। DoubleTwist Music Player

সুবিধা সমূহঃ
@ আপ-টু-ডেট ডিজাইন।
@ কোর অ্যাপটি আপনি বিনামূল্যেই ব্যবহার করতে পারবেন তবে কিছু প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করার জন্য in-app purchase সুবিধা পাবেন।
@ ম্যাজিক রেডিও নামের একটি রেডিও সুবিধা পাবেন যা ব্যবহারের জন্য আপনাকে সাবস্ক্রাইব করতে হবে।
@ মিউজিক প্লেয়ারটিতে রয়েছে একটি অপশনাল অ্যালার্ম-ক্লক অ্যাপ যা আপনি ইচ্ছে করলেই ব্যবহার করতে পারবেন।

অসুবিধা সমূহঃ
@ কিছু কিছু ইন-অ্যাপ পারচেস সুবিধা রয়েছে যেগুলো মূলত কোর অ্যাপটিতেই থাকা প্রয়োজন ছিল।
@ ইউজার রিভিউ পড়লে আপনি অ্যাপটিতে থাকা বেশ কিছু বাগ সম্পর্কে জানতে পারবেন।


ডাউনলোড লিংকঃ গুগল প্লে স্টোর।

২। Equalizer + Mp3 Player

সুবিধা সমূহঃ
@  আপনি যদি ইক্যুয়ালাইজার বেশি ব্যবহার করে থাকেন তবে অবশ্যই এই মিউজিক প্লেয়ারটি আপনাকে আনন্দ দিতে সক্ষম এবং একবারের জন্যে হলেও এই অ্যাপটি আপনার ট্রাই করা উচিৎ।
@ চমৎকার কালারফুল ভিজ্যুয়ালাইজেশন রয়েছে অ্যাপটিতে যা দেখতে ভালো লাগে। 
@ একটি মিউজিক প্লেয়ার হিসেবে অ্যাপটি চমৎকার কাজ করে। ট্র্যাক প্লে করার জন্য বেশ কিছু অপশন রয়েছে এই প্লেয়ারটিতে।
@ অ্যাপটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ভিনটেজ ডিজাইন যা অ্যাপটিতে এনেছে একটি ভিন্ন মাত্রা।
@ আপনাকে এটি বিভিন্ন ভাবে পয়েন্ট অর্জন করতে সাহায্য করবে যার মাধ্যমে আপনি টাকা না খরচ করেও অ্যাপটির ফুল প্যাকেজ আনলক করতে পারবেন।
@ প্লেয়ারটি ট্যাবলেট ডিভাইসের জন্য পারফেক্ট।

অসুবিধা সমূহঃ
@ একটি ট্র্যাকের আর্টিস্ট এবং বিভিন্ন অপশন এই প্লেয়ারটি যেভাবে প্রদর্শন করে তা আরও কিছুটা অর্গানাইজড হতে পারতো।
@ আপনি যদি ইক্যুয়ালাইজার পছন্দ না করে থাকেন তবে অ্যাপটি আপনার মোটেও ভালো লাগবেনা।
@ ডেভেলপারদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং চেষ্টার পরেও কিছু বাগ রয়ে গিয়েছে।

ডাউনলোড লিংকঃ গুগল প্লে স্টোর।
 
more »

বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৪

এল নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব

 মোবাইল ফোন বিভাগটি মাইক্রোসফটের কাছে বেচে দিয়ে এবার অ্যান্ড্রয়েডচালিত ট্যাবলেট বাজারে আনল ফিনল্যান্ডের নকিয়া। একে রীতিমতো ‘চমক’ বলছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।

১৮ নভেম্বর অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ সংস্করণ ললিপপ-নির্ভর এন১ নামের একটি ট্যাবলেট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে ফিনল্যান্ডের নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। বিবিসির এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে মাইক্রোসফটের কাছে নকিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসা হস্তান্তর সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বেশ কিছুদিন ধরেই ভোক্তা পণ্যের বাজারে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল নকিয়া। ১৭ নভেম্বর নতুন এক যুগে পা রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন নকিয়ার প্রধান নির্বাহী রাজিব সুরি। ১৮ নভেম্বর একটি রহস্যময় বাক্সের ছবির মাধ্যমে নতুন পণ্য উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছিল তাঁর প্রতিষ্ঠান।

মাইক্রোসফট যখন নকিয়ার ব্র্যান্ড নামটিকে বাদ দিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ে মোবাইল ফোন উন্মুক্ত করেছে, তখনই নকিয়া অ্যান্ড্রয়েড-নির্ভর ট্যাবলেট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

এন১ ট্যাবটি আগামী বছরের শুরুতেই চীনের বাজারে বিক্রি শুরু হবে। এরপর অন্যান্য দেশের বাজারে আসবে তা।

নকিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নকিয়া ট্যাবটি তারা তৈরি করছে না বরং এই ট্যাবটির জন্য ব্র্যান্ড, নকশা ও সফটওয়্যার থার্ড পার্টির।

তাইওয়ানের ফক্সকন নকিয়ার কাছ থেকে লাইসেন্স কিনেছে।

ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে স্ল্যাশ প্রযুক্তি সম্মেলনে নকিয়া টেকনোলজিসের পণ্য বিভাগের প্রধান সেবাস্তিয়ান নিসট্রোম গতকাল নতুন পণ্যটির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নকিয়া-ভক্তদের জন্য দারুণ একটি পণ্য। যাঁরা সঠিক অ্যান্ড্রয়েড ট্যাব খুঁজছেন, নকিয়ার এই ট্যাবটিই হতে পারে তাঁদের জন্য আদর্শ ট্যাব।’
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা নকিয়ার এই পণ্য ঘোষণাকে ‘চমক’ হিসেবে দেখছেন।

সিসিএস ইনসাইটের প্রধান গবেষক বেন উড বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবছি নকিয়া কত দ্রুত ভোক্তা বাজারে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দেখে। নকিয়াকে যদি তার ব্র্যান্ড নাম দিয়ে কিছু করতেই হয়, তাদের তাড়াতাড়ি করা ছাড়া পথ খোলা ছিল না।’

মাইক্রোসফটও নকিয়া ব্র্যান্ডের উইন্ডোজ আরটি অপারেটিং সিস্টেম-নির্ভর লুমিয়া ২৫২০ ট্যাব বিক্রি করছে। এ ছাড়াও নকিয়া ব্র্যান্ডের ফিচার ফোনগুলোও বিক্রি করছে মাইক্রোসফট। ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে নকিয়ার মোবাইল ফোন বিভাগটি কিনে নেওয়ার সময় ১০ বছরের জন্য নকিয়া ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করার অনুমতিও পেয়েছে মাইক্রোসফট। কিন্তু ফিনল্যান্ডের নকিয়ার অ্যান্ড্রয়েডচালিত ট্যাব ঘোষণা দেওয়ায় মাইক্রোসফটের পরিকল্পনায় কোনো সমস্যা হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গবেষক উড বলেন, ‘মাইক্রোসফট অবশ্যই হতাশ হবে। এ ছাড়া ভোক্তাদের মধ্যে কিছুই ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ট্যাব ঘোষণাটি নকিয়ার নিজস্ব বিষয়, এর সঙ্গে মাইক্রোসফটের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

নকিয়া এন১ ট্যাবে যা আছে
৭.৯ ইঞ্চি মাপের অ্যালুমিনিয়াম কাঠামোর এই ট্যাবটি আইপ্যাড মিনিসদৃশ। অ্যান্ড্রয়েড ললিপপ-চালিত ট্যাবটিতে থাকছে ইনটেল অ্যাটম প্রসেসর ও মাইক্রো এসবি স্লট। এর দাম হবে ২৪৯ মার্কিন ডলার।
more »

সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৪

পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে মোবাইল সিম ক্রয়ে

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যেসব কার্যক্রম সন্দেহজনক, তা ঠেকাতে মোবাইল অপারেটরদের জাতীয় পরিচয় পত্রের (এনআইডি) তথ্য সরবরাহ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হুমকি এবং জঙ্গিবাদ’ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. কামাল উদ্দিন আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। খবর দৈনিক বর্তমানের।

বৈঠক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘আমরা জোর দিচ্ছি যে, যারা নতুন সিম নেবেন, তাদের পরিচয় আমাদের জানতে হবে। পরিচয়পত্র এবং সঠিক পরিচয় জানা ছাড়া কোনো সিম কার্ড দেয়া হবে না। এটার জন্য আমরা ন্যাশনাল আইডি (এনআইডি) ও বিটিআরসির সঙ্গে যে বিষয় রয়েছে তাও গুরুত্ব দেব। এ কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমদকে প্রধান করে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

ড. কামাল উদ্দিন জানান, ‘মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, হুমকি বন্ধ করার জন্য এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোবাইলের মাধ্যমে প্রতারণা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ কীভাবে ঠেকানো যায় তার জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে প্রধান করে সব স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে একটি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা এ মিটিং করেছি।’ তিনি জানান, আগামী বৃহস্পতিবার সাব কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি এ সংক্রান্ত অগ্রগতি কার্যক্রম তৈরি করে আগামী ২ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উত্থাপন করবে। আশা করছি, এ কমিটির কার্যক্রমের ফলে আমরা বাংলাদেশের মোবাইল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারব। আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে— মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যত রকমের হুমকি এবং চাঁদাবাজি যা কিছু হচ্ছে তা বন্ধ করার।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেয়ার বিষয়ে কামাল জানান, মোবাইল সিম কার্ড কোম্পানি গ্রাহকের পরিচয় জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করবে। কর্তৃপক্ষ গ্রাহক তথ্য সঠিক মনে করলে তাকে সিম ক্রয়ের অনুমতি দেবে। তবে সিম কোম্পানিকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ দেয়া হবে না। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর অব বাংলাদেশের (এমটব) সেক্রেটারি জেনারেল টিআইএম নূরুল কবির জানান, বৈঠকে সিম কার্ড বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যাতে কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যক্রম করতে না পারেন। এর জন্য আমরা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য চেয়েছি। এ সম্পর্কে এনআইডি মহাপরিচালক সভায় জানিয়েছেন, এতে অন্যদের পক্ষ থেকে কোন বাধা নেই। সকলের সহযোগিতা থাকলে এ উদ্যোগ সফল হবে।
more »

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

বিদায় ঘণ্টা বাজছে এক সময়ের ১নম্বর ব্র্যান্ড নোকিয়ার !

চলতি বছর মাইক্রোসফট কর্তৃক নোকিয়া অধিগ্রহণের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন নোকিয়া ব্র্যান্ড নামটি বাদ দিতে পারে মাইক্রোসফট। তবে সেসময় তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। এবার জানা গেল, খুব শীঘ্রই নোকিয়া নাম থেকে সরে আসতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। একইসাথে বাদ দেওয়া হতে পারে ‘উইন্ডোজ ফোন’ নামটিও।

বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে সর্বপ্রথম গিক অন গ্যাজেটস নামে একটি ওয়েবসাইটে এই তথ্য ফাঁস হয়। আর এ থেকে ধারণা করা যায়, নোকিয়া নামটি নিয়ে আর সামনে এগোতে চাইছে না মাইক্রোসফট। আর মাইক্রোসফট এই সিদ্ধান্ত নিলে ইতিহাসের অংশ হয়ে যাবে বিশ্বের সবচেয়ে সফল মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ড নোকিয়া।

সেক্ষেত্রে লুমিয়া ৮৩০ এবং লুমিয়া ৭৩০ হতে পারে এই ব্র্যান্ডের সর্বশেষ স্মার্টফোন। সম্প্রতি এই দুটি স্মার্টফোনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

নোকিয়া বাদ দিয়ে কি হতে পারে নতুন নাম ? ধারণা করা হচ্ছে, মাইক্রোসফট নামেই পরবর্তীতে বাজারে আসবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যতের ফোনসমূহ। আর এক্ষেত্রে ‘উইন্ডোজ ফোন’ থেকে ‘ফোন’ বাদ দিয়ে কেবল ‘উইন্ডোজ’ শব্দটি ব্যবহার করা হতে পারে।

কেন এই পরিকল্পনা করছে মাইক্রোসফট ? এই প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারের জন্য একটি অভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ স্মার্টফোন এবং কম্পিউটারের জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেমের আলাদা কোন সংস্করণ থাকবে না। একই ধরণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লিনাক্স। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সথ নাদেলাও একই ধরণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

এবার দেখার পালা নোকিয়ার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়।.
more »

বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৪

মোবাইল গ্রাহকদের স্বার্থে নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি

মোবাইল গ্রাহকদের স্বার্থে এবার নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। এই নীতিমালা হলে বিভিন্ন অপারেটর অফারসহ এসএমএস ও ফোন কল করতে পারবে না। গ্রাহকরাও এসব অনাকাঙ্ক্ষিত এসএমএস ও কল থেকে মুক্তি পাবেন। এসব এসএমএস ও ফোন কল করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তাদের পাঠানো অফার এসএমএস কার্যকর করতে গিয়ে গ্রাহকরা টাকাই দিয়ে যাচ্ছেন- অথচ অফারের কোন সুবিধাই পাচ্ছেন না। দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন কোম্পানি মোবাইল অপারেটরদের টাকা দিয়ে তাদের বিজ্ঞাপনও প্রচার করছে। সময়-অসময়ে ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স, আবাসন শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী, অটোমোবাইল, ভ্রমণ বিষয়ে ফোন কল বা এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এসব এসএমএস গ্রাহকদের বিরক্তির কারণ। মোবাইল রিংটন ডাউনলোড করার ২২২২, ৪৮৪৮, আরও কিছু নম্বর থেকে ফোন করা হয়। এসব কল ধরলেই ফোন কলের মতোই টাকা কেটে নিচ্ছে অপারেটররা।

সূত্র জানিয়েছে, গ্রাহকদের এসব থেকে মুক্তি দিতে ‘কোন বিরক্তি না’ এই নামে বিটিআরসি নীতিমালা করতে যাচ্ছে। টেলিমার্কেটিং কোম্পানির বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল এসএমএস বা অনাকাক্সিক্ষত ফোন কল থেকে মোবাইল ফোন গ্রাহকরা রক্ষা পাবে। এসএমএসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে গ্রাহকরা এ সেবা পাবেন। একটি ‘শর্ট কোড’ দিয়ে এই সেবা সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ধরনের এসএমএস বা ফোন কল পুরোপুরি ব্লক না করেও বিভিন্ন বিভাগ অনুযায়ী ব্লক করে দেয়ার সুযোগ রাখা হবে নীতিমালায়। এ জন্য গ্রাহকদের কোন ফি দিতে হবে না। সেবা নেয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করার বিধানও রাখা হচ্ছে নীতিমালায়।

খসড়া এ নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন অপারেটরদের কোন সেবা সংস্কার বা বন্ধ রাখতে হলে গ্রাহকদের আগে থেকেই জানাতে হবে এসএমএস, ফোন বা দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। মোবাইল ফোন অপারেটররা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়া কাউকে গ্রাহক তথ্য দিতে পারবে না। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারেও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে অপারেটরদের। শিশুরা যাতে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করতে না পারে সে ধরনের ব্যবস্থা অপারেটরদের তৈরি করতে হবে যা অভিভাবকরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের যে কোন ধরনের ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতেও উদ্যোগ নিতে হবে অপারেটরদের। ৬ মাসের বিল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকরা যেন জানতে পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে অপারেটরদের।

এ নীতিমালা জারির পর ৯০ দিনের মধ্যে বিটিআরসি কার্যালয়ে একটি অভিযোগ কেন্দ্র খোলা হবে, যেখানে গ্রাহকরা অপারেটরদের সেবায় সন্তুষ্ট না হলে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এই নীতিমালা বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, অপারেটররা গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করতে সব সময় তৎপর থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নতুন কোন নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে অপারেটর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে অপারেটরদের বৈঠকে বসা উচিত। নীতিমালার ভালমন্দ দিক বিবেচনা করে তা চূড়ান্ত করলে তবেই তা গ্রাহকদের জন্য বেশি কার্যকর হবে। টেলিকম বিশেষজ্ঞরা নীতিমালা প্রণয়ন করলেই হবে না। নীতিমালাটি প্রণয়ন হচ্ছে কিনা তা কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। যদি তা না করা হয় তাহলে গ্রাহকদের জন্য এ নীতিমালা কোন কাজে লাগবে না। বিশ্বের মোবাইল ব্যবহারকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ দশম স্থানে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১২ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। দিন যত যাচ্ছে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ততই বাড়ছে।
এদিকে, ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্টাটিজ এ্যান্ড অপারেশনাল প্রডিউসার্স ফর ইমপ্লিমেন্টিং বেসড এ্যাপ্রোচ উইথ সেক্সুয়াল এ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ রাইটস (এসআরএইচআর) এবং এইচআইভি ইস্যু লিংআপ বাংলাদেশ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্বে ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষই মোবাইল ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি। ১৯৯৩ সাল থেকে দেশে মোবাইল ফোনের প্রচলন ঘটে। ২০ বছরের ব্যবধানে দেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে ১২ কোটি হয়েছে। ২০১১ সালে দেশের সব উপজেলা পর্যায়ে নেটওয়ার্ক পৌঁছে যায়। ২০১৪ সালে মোবাইল ফোনের বিপ্লব ঘটে। মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। বর্তমানে দেশে ৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন-ফেসবুক ব্যবহার করেন এক কোটি মানুষ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে শতকরা ৯৬ ভাগ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ৮০ ভাগ কৃষক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেন।
বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশে মোবাইল ফোনের যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে। যতটা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে। এখন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত চলে গেছে। এতে মানুষ তার চাহিদার অনেক কিছুই ঘরে বসেই পূরণ করতে পারছেন। এখন ইন্টারনেট গ্রাম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। ইন্টারনেটের ব্যবহার গ্রাম পর্যায়ে চলে গেলে শহরের সঙ্গে গ্রামের ব্যবধান কমে আসবে।
more »

রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৪

আইফোন ৬ বনাম স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫

বর্তমান বাজারে অ্যান্ড্রয়েড আর আই.ও.এস - এর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। উইন্ডোজ কিছুটা পিছিয়ে আছে তবে আজকের পোষ্টটি উইন্ডোজ বিষয়ক নয়, তাই আমরা বরং সরাসরি মূল বিষয়ে চলে যাই। আজ আমরা বর্তমান বাজার দখল করে রাখা দুটি জায়ান্ট স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমের চলতি সময়ের দুটি হাই এন্ড স্মার্টফোন তুলনা করে দেখব। কেননা, আমি আমার গত পোষ্টে লিখেছিলাম যে অনেকেই আছেন যারা 'ব্র্যান্ড ভ্যালু' মাথায় রাখে স্মার্টফোন কেনার সময়। আর আজকে তাই বর্তমান সময়ের দুটি চমৎকার হাই এন্ড স্মার্টফোন এর সাথে তুলনা করে আপনাদের দেখাতে চেষ্টা করব। যদি কেউ এ'দুটির মধ্যে থেকে কোনটা কিনবেন ভেবে কনফিউসড থেকে থাকেন তবে আপনার কনফিউশন আশা করি খুব সহজেই চলে যাবে! যাই হোক, চলুন শুরু করা যাক।


ডিজাইন
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ - ৮.১ মিমি চিকন, সফট-প্ল্যাস্টিক ব্যাক এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট।
আইফোন ৬ - ৬.৯ মিমি চিকন, অ্যানোডাইজড অ্যালুমিনিয়াম ব্যাক।




ডিজাইনের কথা চিন্তা করলে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ এবং আইফোন ৬ এর ডিজাইনে অনেক পার্থক্য পাওয়া যায়। কেননা, যেখানে আইফোন ৬ এর পেছনের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে স্মুথ মেটাল এবং কাঁচ সেখানে গ্যালাক্সি এস ৫ -এ ব্যবহার করা হয়েছে সফট-টাচ প্ল্যাস্টিক এবং কর্নারের ক্ষেত্রে হার্ড প্ল্যাস্টিকের মিশ্রণ যা দেখতে অনেকটা মেটালের মতই। হাতে নিয়ে এক নজর দেখার ক্ষেত্রে আসলে কোন স্মার্টফোনই জিতবে না কিন্তু, গ্যালাক্সি এস ৫ এর চাইতে আইফোন ৬ খুবই চিকন দেখাবে এবং পাতলা লাগবে।
ব্যবহারকারীর সুবিধার দিক থেকেও আইফোন কিছুটা এগিয়ে থাকবে, কেননা গ্যালাক্সি ৫ অপেক্ষা এটি ২ মিমি চিকন এবং ৫ মিমি ন্যারো হবার কারণে হাতে নিয়ে ব্যবহার করতে বেশ আরামদায়ক হবে। যদিও, এই ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম গ্যালাক্সি এস ৫ এর রিমোভাল ব্যাক সাইডের মত গ্রিপি হবেনা - যা অনেকেই পছন্দ করে থাকেন। বিশেষ করে যাদের হাত ঘামে বেশি।
গ্যালাকিস এস ৫ এর ব্যাক সাইড মূলত তৈরী করা হয়েছে বলা চলে কিছুটা মিক্সড কনটেন্ট থেকে যা কিনা গ্যালাক্সি এস ৪ এর ব্যাক কভারের সস্তা প্ল্যাস্টিকের ইম্প্রুভমেন্ট বললেই ভালো মানায়।  অন্যদিকে, আপনি যদি অ্যাপলের আসল লেদার কেস ব্যবহার করেন তবে আপনি গ্যালাক্সি এস ৫ এর মত গ্রিপও যেমন পাবেন তেমন আপনার হাতে থাকবে চমৎকার একটি হালকা ডিভাইস; সাথে সর্বোচ্চ প্রোটেকশনতো থাকছেই।
তবে, আপনি যদি খুবই রাফ ব্যবহারকারী হন যেমন বাথরুমের মধ্যেও আপনি গোসলের সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করেন (!) তবে গ্যালাক্সি এস ৫ এগিয়ে থাকবে অনেকটুকুই! কেননা, আইফোন ৬ এ ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট সুবিধা একেবারেই নেই।
অন্যদিকে, গ্যালাক্সি এস ৫ এ রয়েছে ৫.১ ইঞ্চি সাইজের বিশাল স্ক্রিন যা অনেকেরই ব্যবহার করতে কষ্ট হবে বা বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়াবে; বিশেষ করে যাদের হাত ছোট আকারের। এদিক থেকে আবার আইফোন ৬ চমৎকার ভাবে আপনার হাতের মুঠিতে এটে যাবে।


স্ক্রিন
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ - ১৯২০x১৯৮০ অ্যামোলেড।
আইফোন ৬ - ১৩৩৪x৭৫০ আইপিএস।


প্রথমেই বলে রাখছি, দুটি স্মার্টফোনেরই স্ক্রিন বা ডিসপ্লে ইউনিট চমৎকার, তবে যেহেতু আজকে তুলনা করতে বসেছি সেক্ষেত্রে চলুন কিছু কম বেশিতো বের করতেই হবে। তুলনা শুরু করার পূর্বে আরও একটি কথা জেনে রাখা ভালো যে এই দুটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনের পেছনে কাজ করেছে দুটি ভিন্ন টেকনোলজি তাই কোনটি আপনার কাছে জয় পাবে তা নির্ভর করে মূলত 'আপনি কী চাচ্ছেন' এর উপরে।
গ্যালাক্সি এস ৫ এর ডিসপ্লে ইউনিটে ব্যবহার করা হয়েহচে ৫.১ ইঞ্চি বিশিষ্ট অ্যামোলেড ডিসপ্লে যাতে রয়েছে পিন-শার্প ফুল এইচডি রেজ্যুলেশন সুবিধা এবং এতে প্রতি ইঞ্চিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৩২ পিক্সেল (পিপিআই)। এস ৫ এর ডিসপ্লে ইউনিটের একটি সুবিধা হচ্ছে এটি পারফেক্ট কালো রং প্রদর্শন করতে সক্ষম এবং এর রয়েছে অসীম কনট্রাস্ট রেশিও। যার ফলে আপনি যখন মুভি বা কোন ভিডিও ফাইল দেখবেন তখন ভিডিওর কালো অংশ গুলো একদম পারফেক্ট কালোই দেখাবে, এবং অন্য কোন লাইট সোর্স থেকে লাইট স্ক্রিনের কালো অংশকে ধূসর রঙ্গ করতে পারবে না। সংক্ষেপে, 'ভিডিও ফাইল প্লে করে আপনি চমৎকৃত হতে বাধ্য!'
তবে টেকনিক্যালি অ্যামোলেড ডিসপ্লে কখনোই বেস্ট কালার অ্যাকুরেসি দিতে সক্ষম হয়না! তাই, এস ৫ এর কালার মাঝে মাঝে ওভার স্যাটুরেটেড এবং কিছুটা ফেক মনে হয়। যদিও, এস ৫ এর ডিসপ্লে ইউনিট পূর্বের যে কোন গ্যালাক্সি ফোনের চাইতে অনেক ভালো তবুও 'বেস্ট' বলা যাবেনা। তবে, আশার কথা হচ্ছে আপনি গ্যালাক্সির এই ভিভিড কালার ইচ্ছেমত পরিবর্তন করতে পারবেন।
এবার আশা যাক আইফোন ৬ এর ডিসপ্লে ইউনিটে। আইফোন ৬-এ ব্যবহার করা হয়েছে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। এই টেকনোলোজির সুবিধা হচ্ছে এর ব্রাইটনেস ভালো এবং বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে এর কালার অ্যাকুরেসি প্রায় সমান এবং চমৎকার থাকে। যদিও আইফোন ৬ এর রেজ্যুলেশন এবং পিপিআই এস ৫ এর চাইতে বেশ খানিকটা কম তবুও এই ডিসপ্লে ইউনিটটি বেশ শার্প।  আগেও বলেছি, কালার অ্যাকুরেসির ক্ষেত্রে এস ৫ এর চাইতে আইফোন ৬ এগিয়ে থাকবে। 
সব শেষে, গ্যালাক্সি এস ৫ এর স্ক্রিন আইফোনের চাইতে ০.৯ ইঞ্চি বড়, যদিও আপনার হয়ত শুনতে তেমন একটা বড় মনে হচ্ছেনা তবে আপনি হাতে নিয়ে এর তফাৎ দেখলে অবাক হবেন।


ইন্টারনাল স্পিকার
এখনকার সময় আমরা এই ইউনিটটি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত হইনা তবে স্মার্টফোন কেনার পর বাসায় এসে কথা বলার সময় মাঝে মাঝেই হতাশ হতে হয় লো সাউন্ডের ফলে। তাই, তুলনায় 'ইন্টারনাল স্পিকার'ও টেনে আনলাম।
একটি ফোনের স্পিকার কনফারেন্স কল, হেডফোন ছাড়া ভিডিও দেখা - ইত্যাদি কাজে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ইউনিট। মজার বিষয় হচ্ছে, এই স্মার্টফোন দু'টির একটিরও ইম্প্রেসিভ ফ্রন্ট-ফেসিং স্পিকার নেই যেমনটি আছে এইচটিসি ওয়ান এম৮'এর তবে স্মার্টফোন দুটির স্পিকার বলা চলে ডিসেন্ট।
আইফোন ৬ এর স্পিকার এস৫ এর তুলনায় কিছুটা জোড়ালো কিন্তু ফুল ভল্যিউমে সাউন্ড ফেটে যায় যা অবশ্য স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ এর ক্ষেত্রেও একই। তবে, গ্যালাক্সি এস৫ এর স্পিকার কিছুটা ক্লিয়ার সাউন্ড দিয়ে থাকে।

ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার
অ্যাপল আইফোন ৫এস এর সাথে টাচ আইডি প্রযুক্তি ইন্ট্রডিউস করেছিল এবং প্রযুক্তি প্রেমীদের জন্য এটি একটি 'রেভ্যুলেশন'! কেননা, এই প্রযুক্তির কারণে, ফোনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাওয়া যায় এবং আইফোন ৫এস এর এই সুবিধাটি বর্তমানের আইফোন ৬-এ আরও আপডেটেড!
অন্যদিকে গ্যালাক্সি এস ৫-এও স্যামসাং একটি 'ফিঙ্গার প্রিন্ট' স্ক্যানার যুক্ত করেছে তবে সেটা আইফোনের সিকিউরিটি সিস্টেমের ধারের কাছেও কাজ করেনা। কেননা, এক হাত ব্যবহার করে বার বার হাতের আঙ্গুল স্ক্যানারের উপর ওয়াইপ করা কিছুটা ট্রিকি, অন্যদিকে এর ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার শতভাগ সেন্সিটিভ নয়।  

স্টোরেজ
আইফোন ৬-এর ১৬ গিগাবাইট, ৬৪ গিগাবাইট এবং ১২৮ গিগাবাইট - এই তিনটি মডেল বর্তমান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বুঝতেই পারছেন, স্টোরেজ এর দিক দিয়ে আইফোন ৬ কতটা শক্তিশালী!
অন্যদিকে, গ্যলাক্সি এস ৫-এ রয়েছে মাত্র ১৬ গিগাবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ (কিছু দেশে ৩২ গিগাবাইট ভার্শনও পাওয়া যায়) কিন্তু এতে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের জন্যে রয়েছে একটি মেমরী স্লটও। আপনি ইচ্ছে করলেই ১২৮ গিগাবাইটের একটি মেমরী কার্ড কিনে এস ৫ এ ব্যবহার করতে পারবেন যার খরচ মিলেও তা আইফোনের চাইতে কম হবে।

পারফর্মেন্স
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ - ৩২ বিট কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮-১ কোয়াড কোর প্রসেসর, ক্লক রেটঃ ২.৫ গিগাহার্জ, জিপিইউ অ্যাড্রেনো ৩৩০ এবং ২ গিগাবাইট র‍্যাম।
আইফোন ৬ - ৬৪ বিট অ্যাপল ডুয়াল কোর ১.৪ গিগাহার্জ, জিপিইউ পাওয়ার ভিআর জিএক্স৬৪৫০, ১ গিগাবাইট র‍্যাম।
খাতা কলমের হিসেবে নিঃসন্দেহে গ্যালাক্সি এস ৫ এগিয়ে থাকবে, এমনকি এর স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী এটি আইফোন ৬ এর চাইতে দ্বিগুণ শক্তিশালী! কিন্তু, রিয়েল পারফর্মেন্স এর ক্ষেত্রে আইফোন ৬ এর বেঞ্চমার্ক স্কোর কিছু ক্ষেত্রেই ছিল গ্যালাক্সির চাইতে বেশি।
গিকবেঞ্চ ৩ এর বেঞ্চমার্ক ব্যবহার করে দেখা যায় দুটি স্মার্টফোনেরই স্কোর প্রায় সমান, বলে রাখা ভালো যে গিকবেঞ্চ ব্যবহার করা হয় স্মার্টফোনের সিপিইউ পারফর্মেন্স টেস্ট করার ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, অন্য একটি জিপিইউ বেঞ্চমার্ক টেস্টার দিয়ে  জিপিইউ টেস্ট করে দেখা যায় আইফোন ৬ এর গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট গ্যালাক্সি এস ৫ এর চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী, অর্থাৎ আপনি আইফোন ৬ ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক গেম গুলো গ্যালাক্সি এস৫ এর চাইতেও ভালো করে খেলতে পারবেন।
আর সাধারণ ভাবে আমরা যে বিষয় গুলো দেখে থাকি যেমন, ফোনের রেসপন্ড টাইম, ল্যাগ হয় কি না - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই আইফোন ৬ এগিয়ে আছে গ্যালাক্সি এস ৫ এর চাইতে।


ক্যামেরাঃ
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ - ১৬ মেগাপিক্সেল, phase ডিটেকশন, ১/২.৬ ইঞ্চি সেন্সর।
আইফোন ৬ - ৮ মেগাপিক্সেল, phase ডিটেকশন, ১/৩ ইঞ্চি সেন্সর।


প্রায় সব ক্যামেরার ক্ষেত্রেই বেসিক ব্যাপার একই! বড় সেন্সর = ভালো মানের ছবি! এই সূত্রমতেই, গ্যালাক্সি এস ৫ এর ক্যামেরা ভালো আলোতে বেশ চমৎকার ছবি তুলতে সক্ষম, যদিও ব্যাক গ্রাউন্ড মাঝে মাঝে ওভার এক্সপোসড হয়ে যাওয়ার টেন্ডেন্সি লক্ষণীয় এর ক্যামেরাতে দেখা যায়।
অন্যদিকে ব্রাইট কন্ডিশনে আইফোন ৬ এর ক্যামেরাও ভালো মানের ছবি তুলতে সক্ষম। আইফোনের ক্যামেরা লো-লাইট সিচুয়েশনও বেশ ভালো ভাবেই হ্যান্ডেল করতে সক্ষম।
দুটি স্মার্টফোনেই রয়েছে HDR মোড যা মূলত একটি ছবির কিছু বিভিন্ন এক্সপোসারের ছবি একত্র করে মূল একটি চমৎকার সুন্দর ছবি তৈরী করে থাকে।  তবে, HDR মোডের ক্ষেত্রে আইফোন ৬ ভালো কাজ করে এস ৫ এর তুলনায়। কেননা, আইফোন ৬ এর HDR মোডে এটি বেটার কালার অ্যাকুরেসি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি ডিটেইল ক্যাপচার করতে সক্ষম, এমনকি মেঘলা দিনেও।




ব্যাটারি লাইফ
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৫ - ২৮০০০ mAh ব্যাটারি।
আইফোন ৬ - ১৮১০ mAh ব্যাটারি।
সব শেষে কিন্তু খুবই ইম্পর্টেন্ট একটি বিষয় হচ্ছে এই ব্যাটারি লাইফ! অনেকেই আছেন যারা স্মার্টফোন ব্যবহার স্বত্বেও সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করেন - শুধুমাত্র ব্যাটারি লাইফের জন্য! যাই হোক, গ্যালাক্সি এস ৫ এর ব্যাটারি কিছুটা বেশিই সাপোর্ট দেয় এবং আপনি মডারেট ব্যবহারে দেড় দিন অনায়াসে ব্যবহার করতে হবে।
ভিডিও টেস্টের ক্ষেত্রে আইফোন ৬ টিকে ছিল ১০ ঘন্টার মত যা ছিল গ্যালাক্সি এস ৫ এর চাইতে মাত্র এক ঘন্টা কম!
দুটি স্মার্টফোনেই চার্জ হয় খুবই দ্রুত। দুটি ডিভাইসেই ০ থেকে ১০০ পারসেন্ট চার্জ পূর্ন হতে সময় নেয় মাত্র দুই ঘন্টা।

more »
PaidVerts

ধন্যবাদ

এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। যদি ব্লগের কোন পোষ্ট ভাল লাগে তাহলে ব্লগটিকে শেয়ার করুন।

পৃষ্ঠাসমূহ

© 2013 IT News 24 এই সাইটের কিছু পোষ্ট সংগ্রহকৃত Blogger