সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৪

ফ্রিল্যান্সারদের ব্র্যাক ব্যাংক বর্জনের ডাক

সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৪ - by Shah Alam 0

বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ফ্রিল্যান্সাররা 'অনলাইন প্রশেফনালদের একযোগে ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট কর্মসূচী' নাম দিয়ে এ ফেসবুকে ইভেন্ট তৈরি করেছে। ইভেন্টের মূলমন্ত্র হচ্ছে ব্র্যাংক ব্যাংক বয়কট করা।

'চলতি মাসের ৩০ তারিখের পর থেকে অনলাইনে শুধু ব্যালেন্স দেখা যাবে, অনলাইনে লেনদেন করা যাবেনা। তাই আমরা অনলাইন প্রফেশনালরা একযোগে ব্র্যাক ব্যাংক বয়কট করবো ও অন্য আরেকটি ব্যাংক সবাই মিলে বেছে নিবো যাতে একে অপরের সাথে লেনদেন অবাধে করা যায় ।' ফেসবুক এমনটাই বলেছে ফ্রিল্যান্সাররা।

শর্ত জুড়ে দিয়ে গ্রাহকদের অনলাইনে অর্থ লেনদেন বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে নেমেছেন অনলাইন পেশাজীবীরা। একই সঙ্গে সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় একযোগে এ ব্যাংক বর্জনের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে অনলাইনে চলছে এ নিয়ে প্রচারণা।

এ ইভেন্টের সঙ্গে জড়িত প্রতিবাদকারীরা জানান, এতদিন বাৎসরিক কার্ড চার্জ ৬৯০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ৩৪৫ টাকা, মোবাইল এসএমএস চার্জ ২৩০ টাকা দিয়ে আসছে গ্রাহকরা। এখন হার্ডওয়্যারের জন্য ১১৫০ টাকা (ভ্যাটসহ) এবং সফটওয়্যারের জন্য ১৭২ (ভ্যাটসহ) টাকা নিবে ব্র্যাক ব্যাংক। 'আমাদের মত গরীবের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব না' বলেও জানান অনেক ফ্রিল্যান্সার।

এছাড়া অতিরিক্ত বার্ষিক চার্জ, আসাদগেট শাখাসহ বেশ কয়েকটি শাখায় ৫০ হাজার টাকার কমে টাকা জমা না নেয়া এবং অনলাইন লেনদেন সীমা নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন।

ব্যাংকটির এমন নিয়মে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা গত ৮ নভেম্বর ফেসবুক পেইজ খুলে ব্র্যাক ব্যাংক বর্জনের ঘোষণা দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইভেন্টিতে ৬২৬ জন যোগ দিয়েছেন।

ফেসবুকে হাবিবুর রহমান ফিরোজ নামে একজন জানান, গ্রাহক মতামতের তোয়াক্কা না করে ব্যাংক এসএমএস সার্ভিস চালু করে দিয়েছে যার খরচ বছরে অতিরিক্ত ২০০ টাকা।

ফিরোজ আরও জানান, ৬ বছর আগে অ্যাকাউন্ট করার সময় বলা হয়েছিলো টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোন চার্জ লাগবে না। কিন্তু এখন এক লাখের কম হলে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় টাকা পাঠাতে কেটে নিচ্ছে ৫৭ টাকা, এর বেশি হলে কেটে নিচ্ছে ১৫০ টাকা। এসবউ একধরনের প্রতারণা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক তাদের 'টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনস (টুএফএ)' সিস্টেম ফিচার সংক্রান্ত নোটিশ ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের জানান দিচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টুএফএ সিস্টেমের জন্য আবেদন করার সময় বেঁধে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে অর্থ লেনদেনের জন্য এই সিকিউরিটি ডিভাইস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে গ্রাহকদের ইমেইল করেছে ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং বিভাগ। ইমেইলের আরও জানানো হয়, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে টুএফএ সিস্টেম ব্যবহার ছাড়া অনলাইনে অর্থ লেনদেন করা যাবে না।

এছাড়া হার্ডওয়্যার টোকেনের জন্য একজন গ্রাহককে ১১৫০ টাকা (ভ্যাটসহ) প্রদান করতে হবে এবং সফটওয়্যার টোকেনের জন্য ১৭২ (ভ্যাটসহ)।
তবে হার্ডওয়্যার টোকেন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে গ্রাহককে ১৫০০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া) প্রদান করে নতুন ডিভাইস নিতে হবে। এক্ষেত্রে কেন ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ব্র্যাক ব্যাংকের ২৪ ঘন্টার কল সেন্টার নম্বর ১৬২২১-এ কল দিয়ে হার্ডওয়্যার টোকেনের জন্য ১৫০০টাকা (ভ্যাট ছাড়া) এবং সফটওয়্যার টোকেনের জন্য ৩০০ টাকা কেন দিতে হবে এমন প্রশ্ন করলে উপযুক্ত কোনো উত্তর দিতে পারেনি দেবাশীষ নামের ব্র্যাক ব্যাংকের একজন কল সেন্টার এজেন্ট।

টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনস (টুএফএ) নিয়ে ফেসবুক পেজে রিফাত নবী নামে একজন লিখেছেন, 'ব্র্যাক ব্যাংকের ফাতরামির সীমা থাকা উচিৎ। সফটওয়্যার টোকেন এর জন্য টাকা? মানুষরে কি বলদ পাইছো! আমার নিজের ২টা অ্যাকাউন্ট আছে, দুটোই বন্ধ করে দিব।'

সামহোয়্যার ইন ব্লগ সাইটেও ব্র্যাক ব্যাংকের এ কার্যক্রম নিয়ে নেতিবাচক আর্টিক্যাল প্রকাশিত হয়েছে। এই ঠিকানায় গিয়ে ব্লগ সাইটটিতে উল্লেখিত বিষয় বিস্তারিত জানা যাবে।

About the Author

Write admin description here..

0 comments :

PaidVerts

ধন্যবাদ

এই ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। যদি ব্লগের কোন পোষ্ট ভাল লাগে তাহলে ব্লগটিকে শেয়ার করুন।

পৃষ্ঠাসমূহ

© 2013 IT News 24 এই সাইটের কিছু পোষ্ট সংগ্রহকৃত Blogger